রয়টার্স

রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রকে সংযুক্ত করতে ‘পুতিন-ট্রাম্প রেল টানেল’ নির্মাণের প্রস্তাব

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিনিয়োগ দূত ও রাশিয়ার আরডিআইএফ সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের প্রধান কিরিল দিমিত্রিয়েভ তার প্রস্তাবে বলেন, মস্কো ও ‘আন্তর্জাতিক অংশীদারদের’ অর্থায়নে গৃহীত ৮ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্পের আওতায় ৭০ মাইল (১১২ কিলোমিটার) দীর্ঘ একটি রেল ও পণ্যবাহী টানেল নির্মাণ করা হবে। এ টানেল নির্মাণে সময় লেগে যেতে পারে আট বছর।

রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে ‘পুতিন-ট্রাম্প রেল টানেল’ নির্মাণের প্রস্তাব ক্রেমলিন প্রতিনিধির কিরিল দিমিত্রিয়েভ। দেশদুটির মধ্যে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে টানেলটি দুই দেশের জন্য যৌথভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ অনুসন্ধানের পথ তৈরি করে দেবে বলে প্রত্যাশা করছেন তিনি।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিনিয়োগ দূত ও রাশিয়ার আরডিআইএফ সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের প্রধান কিরিল দিমিত্রিয়েভ তার প্রস্তাবে বলেন, মস্কো ও ‘আন্তর্জাতিক অংশীদারদের’ অর্থায়নে গৃহীত ৮ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্পের আওতায় ৭০ মাইল (১১২ কিলোমিটার) দীর্ঘ একটি রেল ও পণ্যবাহী টানেল নির্মাণ করা হবে। এ টানেল নির্মাণে সময় লেগে যেতে পারে আট বছর।

যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে মস্কোর নেয়া কূটনৈতিক উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কিরিল দিমিত্রিয়েভ। তার এ প্রস্তাবের আগে ভ্লাদিমির পুতিন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে একটি ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। এ আলোচনা চলাকালে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে বুদাপেস্টে বৈঠকে অংশ নেয়ার বিষয়ে সম্মত হন দুই প্রেসিডেন্ট।

এর পর শুক্রবার ওয়াশিংটনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের সময়ে উপস্থিত সাংবাদিকরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ক্রেমলিনের এ প্রস্তাব নিয়ে জানতে চান। সে সময় ট্রাম্প প্রস্তাবটিকে ‘আকর্ষণীয়’ বলে উল্লেখ করেন। জেলেনস্কিকে একই প্রশ্ন করা হলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন ‘আমি এ ধারণায় খুশি নই।’

কিরিল দিমিত্রিয়েভ পরে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লেখেন, ‘১৯০৪ সালের সাইবেরিয়া–আলাস্কা রেলপথ প্রস্তাব থেকে শুরু করে রাশিয়ার ২০০৭ সালের পরিকল্পনা পর্যন্ত বেরিং প্রণালীর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ধারনাটি দীর্ঘদিনের। আরডিআইএফ যুক্তরাষ্ট্র–কানাডা–রাশিয়া–চীন রেল প্রকল্পের মতো বিদ্যমান প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করেছে এবং সবচেয়ে কার্যকর পরিকল্পনায় সমর্থন দেবে।’

রাশিয়ার জনবিরল চুকোটকা অঞ্চলকে আলাস্কা থেকে পৃথক করে রেখেছে বেরিং প্রণালী। এ প্রণালীর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের প্রস্থ ৫১ মাইল (৮২ কিমি)। প্রণালীটি দিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের ধারণা অন্তত ১৫০ বছরের পুরনো। প্রণালীর মাঝখানে ডায়োমিড নামে দুটি ছোট দ্বীপ রয়েছে। এর একটি রাশিয়ার, আরেকটি যুক্তরাষ্ট্রের। এ দুই দ্বীপের দূরত্ব মাত্র ২ দশমিক ৪ মাইল (৪ কিলোমিটার)।

কিরিল দিমিত্রিয়েভ এখন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে কাজ করছেন। তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন, মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলো আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়ার প্রকল্পে অংশ নিতে পারে এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক হিসেবে বিবেচিত মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন দ্য বোরিং কোম্পানিকে টানেল নির্মাণের দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে।

ইলোন মাস্ককে উদ্দেশ কিরিল দিমিত্রিয়েভ এক্সে লিখেছেন, ‘ভাবুন তো, পুতিন-ট্রাম্প টানেলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া—অর্থাৎ আমেরিকা ও আফ্রো-ইউরেশিয়া মহাদেশ সংযুক্ত হচ্ছে। ৭০ মাইল দীর্ঘ এ সংযোগ হবে ঐক্যের প্রতীক। প্রচলিত পদ্ধতিতে এ টানেল নির্মাণের ব্যয় ৬৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি হলেও বোরিং কোম্পানির প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে এটি ৮ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামানো সম্ভব। এখন সময় এসেছে একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার।’

তবে ইলোন মাস্কের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, টানেল নির্মাণ ছাড়াও প্রণালীর দুই পাশে অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিপুল অর্থ ব্যয় হবে। চুকোটকার বর্তমান সড়ক ও রেল নেটওয়ার্ক অত্যন্ত সীমিত। দিমিত্রিয়েভ জানান, শীতল যুদ্ধ চলাকালে ‘কেনেডি-ক্রুশ্চেভ ওয়ার্ল্ড পিস ব্রিজ’ নামে প্রণালীর ওপর সেতু নির্মাণের একটি প্রস্তাব উঠেছিল। তিনি সে সময়কার একটি নকশাও প্রকাশ করেছেন, যেখানে নতুন টানেলের সম্ভাব্য রুট চিত্রিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আরডিআইএফ এরই মধ্যে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাশিয়া-চীন রেল সেতুতে বিনিয়োগ ও নির্মাণ সম্পন্ন করেছে। এখন সময় এসেছে আরো বড় কিছু করার—মানব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মহাদেশগুলোকে যুক্ত করার। সময় এসেছে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের।’

আরও